বাংলাদেশ জাতীয় পোর্টাল নির্বাচন কমিশন বাংলা এক্সপ্রেস ডিজিটাল সময় বিবিসি বাংলা ফেইসবুক ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশ অনলাইন রেডিও ন্যাশনাল নিউজ আমাদের মিডিয়া ভোয়া নিউজ ইউটিউব বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট সোসাইটি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এলজিইডি কোয়াব নোয়াখালী ওয়েব ডয়চে ভেলে নিউজভিশন ভিডিও অনলি ফর জার্নালিস্ট
প্রচ্ছদ সর্বশেষ ফটো গ্যালারী বিজ্ঞাপনের মূল্য তালিকা মন্তব্য যোগাযোগ
Our site Web
 তৃণমূল সংবাদ
 বর্হিবিশ্ব
 বাংলাদেশ
 অন্যান্য খবর
 অর্থ-বানিজ্য
 শেয়ার বাজার
 সংগঠন সংবাদ
 বিনোদন
 ফলোআপ
 তথ্য প্রযুক্তি
 সম্পাদকীয়
 খেলাধুলা
 প্রবাস
 অপরাধ
 শিরোনাম
   
 আদালত সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করে তা বলা যাবে না : শ্যামল দত্ত
 

প্রশ্ন : মিস্টার শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশের জামায়াআতে ইসলামী'র আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামিসহ দলটির তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতারের খবর ঢাকা থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ দৈনিকেই শীর্ষ শিরোনাম হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু জামাআতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নেতারা এ ধরনের কোন বক্তব্য দেন নি বা দিলেও তাতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কিছু ছিলো না। তারপরও তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

উত্তর : দেখুন আমরা যতদূর জানতে পেরেছি যে, তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার। বিশেষ করে হযরত নবী (সাঃ) এর সাথে তুলনা করা হয়েছিলো মতিউর রহমান নিজামির। তার প্রেক্ষিতে একজন মামলা করেছেন এবং মামলার প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারী করা হয়েছিলো। কিন্তু সে সমনে সাড়া দেন নি বলেই আদালত এই তিন নেতার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যূ করে এবং সেই ওয়ারেন্টের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে আমরা আরো জানতে পেরেছি যে, একই মামলায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের সহ সভাপতি আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন এবং তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। আমি জেনেছি বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে যে, জামাআতের গ্রেফতারকৃত নেতাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। তো যেহেতু তাদেরকে একটি জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে, কাজেই তারা যদি জামিন আবেদন করেন তো আমরা আশা করবো যে, তারা জামিন পেয়ে যাবেন। কারণ, এ ধরনের রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার নানা ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। সেরকম কিছু হোক আমরা তা প্রত্যাশা করছি না। আমরা আশা করবো তারা জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়ে যাবেন।

প্রশ্ন : কিন্তু ডিবির একজন পদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তাহলে কি আমরা ধরে নেবো যুদ্ধ অপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার কার্যত শুরু হয়ে গেলো?

উত্তর : না, সেটি একটি ভিন্ন প্রসঙ্গ। সেক্ষেত্রে আদালতে আরেকটি মামলা করতে হবে। কারণ, যে মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সে মামলায় যুদ্ধ অপরাধের তদন্ত বা সে ধরনের কোন অভিযোগ করা হয় নি। ফলে সেই মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো যাবে না। কারণ, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলার প্রয়োজন হবে এবং সেই মামলায় রিমাণ্ডের আবেদন করলে হয়তো জিজ্ঞাসাবাদের একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু বর্তমান মামলায় অর্থাৎ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলায় আমার মনে হয় না সে ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ আছে, যদি না তাদেরকে অন্য কোন মামলায় শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়। আমাদের এখানে ট্র্যাডিশন হচ্ছে এক মামলায় গ্রেফতার হয়, অন্য মামলায় শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়। তো সেরকম কিছু হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হবে আর কি!

প্রশ্ন : জ্বি, মিস্টার শ্যামল দত্ত আমি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন করতে চাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকারের অনেক মন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু কথা বলেছেন, যাতে স্পষ্টভাবে ইসলাম অবমাননা হয়েছে বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্প্রতি ভোলার উপনির্বাচনের আগে স্বয়ং আল্লাহ নেমে আসলেও নির্বাচনে কারচুপি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এ ধরনের মন্তব্যকে আদালত আমলে নেয় নি। আপনি কীভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?

উত্তর : দেখুন আমাদের এখানে আদালতগুলোর নিরপেক্ষতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় নি এবং আদালত সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করে তাও বলা যাবে না। এর পেছনে রাজনীতি থাকে এবং রাজনীতি অনুযায়ীই আদালত পরিচালিত হয়, এটি আমাদের দুর্ভাগ্য। বিচার বিভাগ নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি, বিশেষ করে স্বাধীন বিচার বিভাগ সবার প্রত্যাশা, কিন্তু আদালত কতটুকু স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করে সেটি এখনো বিবেচনার বিষয়। কিন্তু মূল বিষয়টি হচ্ছে- দেশের মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে- বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং যে অপরাধগুলো আমলযোগ্য সেগুলো আমলে নেবে এবং যেগুলো আমলযোগ্য নয় সেগুলো প্রত্যাখ্যান করবে। রাজনীতি দ্বারা পরিচালিত হবে না- এটাই প্রত্যাশা।

প্রশ্ন : মিস্টার শ্যামল দত্ত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সংসদে এক ভাষণে বিরোধী দলের প্রতি সংসদে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন সংসদে এসে তাদের কথাগুলো বলে। অপরদিকে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলকে সংসদে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক নয়। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে আন্তরিক হতো, তাহলে বিরোধী দলের অন্তত একটি মূলতুবি প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ দিতো। এ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

উত্তর : সংসদীয় রীতিতে অনেক সময় বিরোধী দলের মূলতুবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সে রকম রীতি নেই। অতীতেও কখনোই বিরোধী দলের মূলতুবি প্রস্তাব আমলে নেয়া হয় নি। কিন্তু তারপরও আমি বলবো, আমরা যেহেতু সংসদীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করি এবং মনে করি, এই রাজনীতিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রযোজ্য, কাজেই সংসদকে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। এখানে সরকারী দল বিরোধী দলের প্রতি কতটুকু আন্তরিক বা আন্তরিক নয়, তার চেয়ে বড় কথা হলো, বিরোধী দলের উচিত প্রতিদিন সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়া এবং সেখানে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যা যা করা সম্ভব তা করা। তারা ওয়াক আউট করতে পারে, প্রতিবাদ করতে পারে এমনটি সংসদের ভেতরে বিক্ষোভ দেখাতে পারে। এগুলো আমাদের সংসদীয় প্র্যাকটিস এরই অংশ। তো আমরা চাইবো যে বিরোধী দল সংসদ অধিবেশন বর্জনের রাজনীতি পরিহার করবে। যত অসুবিধাই থাকুক না কেন, সংসদকেই আমাদের প্রাধান্য দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা দেখেছি সাংসদ এ্যানির গ্রেফতার নিয়ে মাননীয় বিরোধী দলের সাংসদরা স্পিকারের সাথে দেখা করেছেন। তারা এ বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভেতরেও প্রতিবাদ জানাতে পারেন, আরো সোচ্চার ভূমিকা রাখতে পারেন সংসদে বা সংসদের বাইরে। মূল বিষয়টি হচ্ছে, সংসদকে কেন্দ্র করেই আমাদের পুরো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে হবে। কারণ সংসদীয় রাজনীতির একমাত্র নির্ভরযোগ্য জায়গা হচ্ছে সংসদ।

প্রশ্ন : আপনি এ্যানির প্রসঙ্গটি আনলেন.. আমি এ সম্পর্কে আরেকটি প্রশ্ন করবো। সম্প্রতি বিএনপি আহুত হরতালের দিন বিরোধী দলীয় নেতা মীর্জা আব্বাসের বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনী হানা দিয়ে আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাইকে পিটিয়েছে। এ খবর আমরা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সচিত্র দেখেছি। এছাড়া বিএনপি নেতা শমশের মবিন চৌধুরিকে একদিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়েছে। আবার এই জামাআত নেতাদের গ্রেফতার করা হলো। সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সরকার বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একটি কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে এবং সংঘাতমূলক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে দেশ। অনেকে অভিযোগ করছেন, এর ফলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। সার্বিকভাবে বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

উত্তর : দেখুন সংঘাত এবং সহিংসতার রাজনীতি যখন দেখা দেয়, তখন মানবাধিকার লংঘিত হবেই। এটাই স্বাভাবিক। তবে তারপরও দেখুন আমাদের রাজনীতিতে কতগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। বিরোধী দল এবার হরতাল ডাকলো প্রায় ১৬ মাস পরে। তাৎক্ষণিক হরতাল যে জনগণ নিচ্ছে না, এখান থেকে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আবার হরতালের স্টাইলেও পরিবর্তন ঘটেছে। হরতালের আগে বিরোধী দলের নেতারা বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করেছেন, লিফলেট বিতরণ করেছেন যাতে জনগণ হরতালে অংশগ্রহণ করে। পিকেটিং কম হয়েছে। বরং হরতালে সরকার অনেক বেশী মারমুখী ছিলো। আবার সরকার মারমুখী হলেও তাদের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক দিক ছিলো। যেমন মির্জা আব্বাসের বাড়িতে হামলা বা এ্যানির ওপর হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারী দলের অনেক নেতা। তারাও বিষয়টিকে মেনে নেন নি। এই ইতিবাচক দিকগুলোকে আমরা যদি সামনের দিকে আমাদের অভিজ্ঞতার জন্য কাজে লাগাই এবং আমরা যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি, তাহলে দেশের কল্যাণ হবে। এটি সকল মানুষের প্রত্যাশা।

সকল সাক্ষাতকার
...................... গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের কমিটমেন্ট আছে: মিজারুল কায়েস
আদালত সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করে তা বলা যাবে না : শ্যামল দত্ত
............................. যুদ্ধাপরাধের বিচার স্বচ্ছ হবে, গ্রহণযোগ্য হবে: বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তথ্য আটকানো যাবে না: প্রধান তথ্য কমিশনার
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহফুজা আকতার বললেন,চেয়ার আর টেবিল নিয়ে বসে অলস সময় কাটালেও জনগণকে ঠিকই জবাবদিহি করতে হয়
বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান বললেন,অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সকল এলাকার উন্নয়ন করা হবে
‘অভিনয় যতটুকুই করেছি এর ৪০ ভাগ কৃতিত্ব আমার আর বাকী কৃতিত্ব পরিচালকের’
৭২'র সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাসহ কিছু বিষয় আছে-যেগুলো নিয়ে সংকট সৃষ্টি হবে :নাইমুল ইসলাম খান