|
 |
সাক্ষাতকার গ্রহনে: জীবন সাহা
তাড়াশ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহফুজা আকতার কর্মঠ ও তারুণ্যের প্রতীক সম্ভাবনাময় এক নারী। ছাত্র জীবনে কলেজ ছাত্র সংসদে নেত্রী হিসাবে নারীদের কিছু করার প্রত্যাশা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। স্নাতক ডিগ্রী লাভ পর্যন্ত ছাত্রীদের পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত নির্যাতিত কর্ম অক্ষম নারীদের জন্য তিনি স্বল্প পরিসরে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদে নির্বাচনে বিধান থাকায় তিনি শুধু মাত্র এলাকার নারী সমাজের উন্নয়নে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থীকে পিছনে ফেলে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভও করেন। তরুণ্য নির্ভর এই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকার নারীদের কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, নারী নির্যাতন, নারীদের স্বাবলম্বী করা, অসহায় নারীদের সহযোগীতার প্রত্যাশা নিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের যে চেয়ারটিতে তিনি বসেছিলেন তা মাত্র ১ বছরের মধ্যেই প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির বিরাট ফারাক তাকে মানুষিক ভাবে হতাশ করে তুলেছে সম্প্রতি তিনি কথা বলেন নিউজভিশনের সাথে, যার কিছু চৌম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো ।
প্রশ্ন : নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে কিভাবে কাজ করছেন ?
উত্তর: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রায় ১ বছর অতিক্রান্ত হলেও এ পর্যন্ত কোন কাজ না থাকায় অফিসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। অন্যদিকে নারী সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে যথাযথ সম্মান ও কাজের সুযোগ না থাকায় ক্ষোভ ও দুঃখই শুধু বেড়েছে।
প্রশ্ন: অন্যান্য সুযোগ সুবিধা-দাপ্তরিক কাজগুলো করার ক্ষেত্রে মানুষিক স্বাধীনতা কি ভাবে কাজে লাগাচ্ছেন ?
উত্তর: ভাইস চেয়ারম্যানের সম্মানীভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও তা এখোনো চোখে দেখলাম না । আমার টেবিলে কোন ফাইল পত্র নেই। যাতায়াতের জন্য কোন যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। নেই পত্রিকা। এমনকি নেই ১টি টেলিফোনও। চেয়ার আর টেবিল নিয়ে বসে অলস সময় কাটালেও জনগণকে ঠিকই জবাবদিহি করতে হয়।
সামাজিক আচার অনুষ্ঠান বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নিজ পকেট থেকে দান অনুদান দিতে হয়। বাসায় বিভিন্ন কাজে অনেক নারী কাজের জন্য ভিড় করলেও সাধ থাকলেও সাধ্যের মধ্যে তার করার কিছুই নেই। এলাকার নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে নারী প্রতিনিধি হিসাবে কিছুই করতে পারছি না।
প্রশ্ন: আপনি সুযোগ পেলে কি দিয়ে এলাকার উন্নয়ন শুরু করতে চান ?
উত্তর: যেহেতু চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলা একটি পশ্চাৎপদ উপজেলা এই উপজেলার মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সেহেতু তাদের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ থাকার স্বত্ত্বেও কাজ করতে পারছি না। অথচ হস্ত ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে বহু নারীকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। যদি সরকারী ভাবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদেরকে সে রকম ক্ষমতা ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে প্রথমেই এ বিষয়টি আমার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে ।এছারাও অসহায়, বৃদ্ধ, দরিদ্র নারীদের সাহার্য্যার্থে সরকারী যেসকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মাধ্যমে করলে নারীদের প্রতিনিধি হিসাবে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হত।
প্রশ্ন: এ সকল সমস্যা নিরসনে আপনি কি ব্যাক্তিগত ভাবে কোন পদক্ষপে গ্রহন করেছেন ?
উত্তর : এটা তো শুধু আমার একার সমস্যা নয় । সরকারও বিষয়টি সম্র্পকে অবগত । তবে আমরা সকলে মিলে এ সমস্যাগুলো নিরসনে কাজ করবো ।
|
|