|
সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে বুধবারের মধ্যে '৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে গঠিত হতে যাওয়া সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি চূড়ান্ত হচ্ছে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে আইন ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের সাংসদদের নিয়ে গঠিত হবে ১৫ থেকে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। সংসদীয় এ কমিটিতে জামাতে ইসলামীর কোনো সদস্যকে রাখা হচ্ছে না। প্রধান বিরোধীদল বিএনপির কেউ কমিটিতে থাকবেন কিনা তা চূড়ান্ত করতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সন্ধ্যার পর দলের আইন বিশেষজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।
বিরোধীদল সদস্য না দিলে সেই জায়গা খালি রাখা হতে পারে বলে মনে করেন কমিটির সম্ভাব্য সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। সংসদীয় কমিটি বিষয়ে দেশ টিভির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে কমিটির কর্মপরিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানান, কমিটি গোছানোর কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। বুধবারের মধ্যেই কমিটিতে কারা কারা থাকছেন তা চূড়ান্ত করা হবে। প্রধান হিসেবে থাকবেন সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুস শহীদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, ডা. দীপু মণি, অ্যাডভোকেট শিরিন শারমিন চৌধুরী, ফজলে নূর তাপস, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু ও জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নাম প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, "আমাদের সরকারি দলের নেতা জনাব সাজেদা চৌধুরী এটার আহ্বায়ক হবেন। তিনি সিনিয়র মানুষ যখন তাকে নিয়েই করবো। প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, ন্যাপ, জাতীয় পার্টি তাদের জন্য আমরা অপেক্ষা করবো। পরিধিটা ব্যাপক, কারণ সংবিধান সম্পর্কীয় যাবতীয় বিষয়ই এই কমিটির বিবেচনায় আসতে পারে। ৭২-এর সংবিধানের বাইরেও জাজমেন্টের বাইরেও অনেক কথা আছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ ধরনের নানা প্রশ্ন আছে।"
সরকারি দলের প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ জানান, ২২ জুলাই তারিখে বাজেট অধিবেশন সমাপনীর শেষ দিনটিতেই অনুমোদন হয়ে যাবে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি।বিরোধীদল বিএনপিকে পাঠানো চিঠির জবাবে দলটি যদি কোনো কোনো সদস্যকেই এ কমিটিতে থাকার জন্য মনোনয়ন না দেয় সে ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন কমিটির সম্ভাব্য সদস্য সচিব সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।আর চিফ হুইপ আবদুস শহীদ বলেন, বিএনপি যদি কারো নাম না দেয় তাহলে সেখানে কাউকে না নিয়ে ফাঁকা রাখার সম্ভাবনাই বেশি।এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে বুধবারই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে এবং সেদিন অথবা পরদিন বৃহস্পতিবার সংসদে অনুমোদন দেয়া হবে বিশেষ কমিটির।
এ সম্পর্কে চিফ হুইফ আব্দুস শহীদ বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেয়ার পরেই সংসদে উত্থাপন করা হবে। আজকে যদি চূড়ান্ত করা যায় কালকে (বুধবার) হতে পারে। কালকে তো সরকারি দিবস। বেসরকারি দিবসে না করে আমরা চেষ্টা করবো সরকারি দিবসে করা যায় কিনা। আর না হলে বেসরকারি দিবসে কার্য সম্পাদন করে সরকারি কাজও করা যায় বিধি অনুযায়ী। আমরা এমন তো করতে পারি, না দিলে ওই নামটা খালি রাখতে পারি।"
সুরঞ্জিত আরো জানান, জামাতে ইসলামীর কোনো সংসদ সদস্যকে এই কমিটিতে রাখা হবে না।গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী '৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে গঠন করা হবে সংসদীয় কমিটি। এরইমধ্যে এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিএনপিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।যেসব রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য নেই সেসব দল এবং সুশীল সমাজও যাতে সংবিধান সংশোধনে মতামত দিতে পারে সে সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান সুরঞ্জিত।
|
|