|
শেয়ারবাজারে লেনদেন ও সূচকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখবে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল বুধবার এক জরুরি সভায় লেনদেন ও শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধে এসইসির নেয়া পদক্ষেপ পর্যালোচনা শেষে পরিদর্শন কার্যক্রম ও কঠোর নজরদারি বহালের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের মধ্য দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ তুলে নেয়ার কারণে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন ঘটেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
এসইসির সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস যাবৎ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যার তুলনায় ডিএসইতে অস্বাভাবিক লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে অধিকাংশ শেয়ারের দর অতি মূল্যায়িত হওয়ার কারণে সূচকের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় এসইসি থেকে বার বার উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে মার্জিন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে পিই রেশিও কমিয়ে আনা, মার্জিন ঋণ ১:১.৫ এর পরিবর্তে ১:১ হারে প্রদানের সিদ্ধান্ত কার্যকরসহ বাজার পরিদর্শন কার্যক্রম বাড়ানো উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এসইসির নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও শেয়ারের অতি মূল্যায়ন, লেনদেন ও সূচকের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাচ্ছে না। বাজারের এ অবস্থায় আজ বুধবার এসইসি বাজার পর্যালোচনার জন্য জরুরি সভায় বাজার নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্জিন ঋণ কমানোর এসইসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পরও যদি পুঁজিবাজার স্বাভাবিক আচরণ না করে তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হলেও নজরদারি ও ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে এসইসি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ডিএসইতে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। বিশেষ করে লেনদেনে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও জ্বালানি খাতের প্রায় সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। তবে এ দরপতনকে বিনিয়োগকারীদের সাময়িক প্রফিট টেকিং (লভ্যাংশ তুলে নেয়া) বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের পরও ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫৯৩ কোটি টাকা। সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৬ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে ৬৩০৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২৪৫টি কোম্পানির ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ৫১টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে আজ মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৫৯৩ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৮৮৩ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা কম। আজ লেনদেনকৃত ২৪৫টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৯টির, কমেছে ১৮৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টি কোম্পানির শেয়ার।
|
|